সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
আলিনা অ্যারেনসিবিয়া নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ভুয়া পরিচয়ে ১২ হাজার ডলারের রোলেক্স কিনতে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্টে ধরা নারী

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ১২ হাজার ৩০০ ডলার মূল্যের একটি 'রোলেক্স সাবমেরিনার' ঘড়ি কেনার চেষ্টার অভিযোগে আলিনা অ্যারেনসিবিয়া নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২০২৫ সালের মে মাসে বোকা রেটন এলাকার একটি জুয়েলারি দোকানে অভিনব এই জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি এই ঘটনার পুলিশের বডি-ক্যামেরা ফুটেজ প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি নতুন করে গণমাধ্যমের আলোচনায় আসে।   জানা যায়, ওই নারী দোকানে গিয়ে ঘড়িটি কেনার জন্য তাঁর আইডি ও পেমেন্ট কার্ড জমা দেন। কার্ডের ওপর মুদ্রিত নামের সঙ্গে আইডি কার্ডের তথ্যের আপাত মিল থাকলেও, দোকানের সিস্টেমে আইডি কার্ডটি স্ক্যান করতেই ভিন্ন নাম ও ঠিকানা বেরিয়ে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহ হওয়ায় ওই স্মার্ট কর্মী বোকা রেটন পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি নিজেকে ‘এমিলি’ হিসেবে পরিচয় দেন এবং কার্ডটি নিজের বলে অনড় থাকেন। একপর্যায়ে তিনি দোকান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টাও করেন, কিন্তু পুলিশ তাঁকে আটকে রাখে।   অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ ঘটনাস্থলে একটি পোর্টেবল ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার নিয়ে আসে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার দিয়ে হাতের ছাপ নেওয়ার পরই ওই নারীর আসল পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। পাম বিচ কাউন্টির রেকর্ড অনুযায়ী, তাঁর আসল নাম আলিনা অ্যারেনসিবিয়া। প্রতারণার কাজ শেষে দ্রুত পালানোর জন্য তিনি ‘লেনা’ ছদ্মনামে একটি উবারও ডেকে রেখেছিলেন। তবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানারে আসল পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ওই উবার চালককে খালি হাতেই ফিরে যেতে হয়।   সব প্রমাণ হাতে পাওয়ার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে আলিনাকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণামূলকভাবে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার, জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স বা পরিচয়পত্র রাখা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে মিথ্যা পরিচয় দেওয়ার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। কাউন্টির রেকর্ড অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগের প্রতিটির জন্য ৫ হাজার ডলার করে জামিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।

১৮ মিনিট Ago
অনীতা উইং লি ও টিম মুট্টোর
বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসা ও বিয়ে, টিমের মধ্যেই নিজের কাঙ্ক্ষিত জীবনসঙ্গীকে খুঁজে পেয়েছিলেন অনীতা

কানাডার টরন্টোতে ২০২১ সালে এক অভিন্ন বন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে পরিচয় হয়েছিল অনীতা উইং লি ও টিম মুট্টোর। দুজনেরই আগে পূর্ব আফ্রিকায় কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও তখন তাদের দেখা হয়নি। টরন্টোর সেই পরিচয় ধীরে ধীরে বন্ধুত্বে রূপ নেয়, আর কয়েক বছর পর সেই বন্ধুত্বই পরিণতি পায় ভালোবাসা ও বিয়েতে।   ভ্রমণ, মানবিক কাজ এবং জীবনের নানা মূল্যবোধে মিল থাকায় সময়ের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়। একপর্যায়ে টিম অনীতার প্রতি নিজের অনুভূতির কথা জানান। তবে শুরুতে অনীতা সম্পর্কের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। বিশেষ করে জীবনসঙ্গী হিসেবে তিনি নিজের চেয়ে লম্বা কাউকে কল্পনা করতেন। ফলে টিমকে শুরুতে তিনি বন্ধুই হিসেবে দেখতেন।   তবে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তাদের একে অপরকে আরও গভীরভাবে জানার সুযোগ করে দেয়। সময়ের সঙ্গে অনীতা টিমের দয়া, বিশ্বস্ততা, যত্ন, চরিত্র এবং মানুষের প্রতি তার সম্মানবোধকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে তার কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, জীবনসঙ্গীর ক্ষেত্রে বাহ্যিক চেহারার চেয়ে একজন মানুষের চরিত্র ও মূল্যবোধ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   অনীতা পরে উপলব্ধি করেন, টিমের মধ্যেই তিনি এমন অনেক গুণ খুঁজে পেয়েছেন, যা তিনি একজন জীবনসঙ্গীর মধ্যে সত্যিকার অর্থে চেয়েছিলেন। ২০২৩ সালে তাদের বন্ধুত্ব প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়।   ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর টিম ও অনীতার বাগদান হয়। এরপর ২০২৫ সালের ২১ জুন কানাডার অন্টারিওর স্ট্রিটসভিলের সেন্ট অ্যান্ড্রুজ প্রেসবাইটেরিয়ান চার্চে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের ছবি প্রকাশের পর তাদের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।   দুজনের উচ্চতার পার্থক্যও মানুষের বিশেষ নজর কাড়ে। অনীতা প্রায় ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি এবং টিম প্রায় ৪ ফুট লম্বা। এই পার্থক্যের কারণে অনলাইনে অনেকের কৌতূহল তৈরি হলেও, দম্পতি তাদের গল্পের মূল বিষয় হিসেবে উচ্চতাকে নয়, বরং বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও পারস্পরিক মূল্যবোধকে সামনে এনেছেন।   অনীতা ও টিমের গল্পটি শেষ পর্যন্ত এমন এক সম্পর্কের উদাহরণ হয়ে ওঠে, যেখানে প্রথম দেখায় যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে সেটিই গুরুত্ব হারিয়েছে। বন্ধুত্বের মধ্য দিয়ে একে অপরকে জানার পর অনীতা টিমের মধ্যে যে গুণগুলো খুঁজে পেয়েছিলেন, সেগুলোই শেষ পর্যন্ত তাদের সম্পর্ককে বিয়ের পরিণতি দেয়।

৫৩ মিনিট Ago
যুক্তরাষ্ট্রে ক্লিক-টু-ক্যানসেল
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম শহর হিসেবে নিউইয়র্কে ‘ক্লিক-টু-ক্যানসেল’ নিয়ম, সাবস্ক্রিপশন বাতিল হবে এক ক্লিকেই

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম শহর হিসেবে নিউইয়র্ক সিটিতে গত ১ অক্টোবর থেকে সাবস্ক্রিপশন বাতিলের নতুন নিয়ম 'ক্লিক-টু-ক্যানসেল' কার্যকর হয়েছে। এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হলো, কোনো সেবায় যুক্ত হওয়া যতটা সহজ, তা বাতিল করার প্রক্রিয়াটিও ঠিক ততটাই সহজ করা। এখন থেকে অনলাইনে সাইন-আপ বা যুক্ত হওয়ার সুবিধা থাকলে, সেই সেবা বাতিলের জন্যও প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবশ্যিকভাবে অনলাইনে সরাসরি ক্যানসেল বাটন বা উপায় রাখতে হবে।     নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান সাবস্ক্রিপশন বাতিলের সময় গ্রাহককে সশরীরে উপস্থিত হতে বা ফোনকলে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে বাধ্য করতে পারবে না। জিম, স্ট্রিমিং সার্ভিস কিংবা ফ্রি ট্রায়াল থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়নযোগ্য যেকোনো মেম্বারশিপের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব কনজ্যুমার অ্যান্ড ওয়ার্কার প্রটেকশন (DCWP) জানিয়েছে, নিয়ম অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিটি লঙ্ঘনের জন্য অন্তত ৫২৫ ডলার জরিমানার মুখে পড়তে হবে।   গ্রাহকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য চ্যাটবটের লুপে ফেলে রাখার বদলে সরাসরি কর্মীদের মাধ্যমে দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে এই প্ল্যাটফর্মে।   কর্তৃপক্ষের ধারণা, এই উদ্যোগের ফলে নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের বছরে ২ কোটি ১৫ লাখ থেকে ১৬ কোটি ২৫ লাখ ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। পাশাপাশি, সাবস্ক্রিপশন বাতিলের জটিলতায় গ্রাহকদের যে হয়রানি হতো, তাতে বছরে অন্তত ৬ লাখ ঘণ্টা সময় বেঁচে যাবে।   এর আগে ফেডারেল ট্রেড কমিশন (FTC) জাতীয় পর্যায়ে এমন একটি নিয়ম চালুর উদ্যোগ নিলেও একটি আপিল আদালতের রায়ে তা আটকে যায়। এর ফলে নিজস্ব উদ্যোগে নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন সাধারণ মানুষের জন্য এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করল।

১ ঘন্টা Ago
যুক্তরাষ্ট্রে ২ কোটির বেশি প্রবীণকে এককালীন ৯০ ডলার দিচ্ছেন ট্রাম্প, মেডিকেয়ারের প্রিমিয়াম কমাতে উদ্যোগ
যুক্তরাষ্ট্রে ২ কোটির বেশি প্রবীণকে এককালীন ৯০ ডলার দিচ্ছেন ট্রাম্প, মেডিকেয়ারের প্রিমিয়াম কমাতে উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ২ কোটির বেশি প্রবীণ নাগরিককে এককালীন ৯০ ডলার করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রবীণদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি 'মেডিকেয়ার'-এর মাসিক প্রিমিয়ামের খরচ কিছুটা লাঘব করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, এই অর্থায়নের জন্য কংগ্রেস মেডিকেয়ার ইমপ্রুভমেন্ট ফান্ডে ২ বিলিয়ন বা ২০০ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে।   আসন্ন নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ মিডটার্ম নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন ভোটারদের আকৃষ্ট করতে রিপাবলিকান নেতার দেওয়া ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতির সর্বশেষ সংযোজন হলো এই ৯০ ডলারের অনুদান। বর্তমানে মার্কিন সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান দলের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের রেটিং বেশ নিম্নমুখী।   হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যমতে, যোগ্য প্রবীণরা অক্টোবরের শুরুতেই এই ৯০ ডলার সরাসরি তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে (ডাইরেক্ট ডিপোজিট) পেয়ে যাবেন। যাদের ডাইরেক্ট ডিপোজিট সুবিধা নেই, তাদের মেডিকেয়ারে নিবন্ধিত ঠিকানায় ডাকযোগে চেক পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এর আগে গত মাসে ট্রাম্প প্রস্তাব করেছিলেন, রিপাবলিকান দল মিডটার্ম নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে তিনি সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে চেক পাঠাবেন। যদিও অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের পাশাপাশি স্বয়ং কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও তাঁর ওই বিশাল প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। এছাড়া ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’-এর অধীনে অতিরিক্ত ফি দেওয়া প্রায় ১০ লাখ মার্কিনিকে আলাদাভাবে ৫০০ ডলার করে ফেরত দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন, যা আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে চাকরির বাজারে ধীরগতি, প্রভাব পড়তে পারে সুদ ও খরচে

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ চাকরির প্রতিবেদনে দেশটির শ্রমবাজারে ধীরগতির চিত্র উঠে এসেছে। সেপ্টেম্বর মাসে মার্কিন নিয়োগদাতারা ২৯ হাজার নতুন চাকরি যোগ করেছেন, যা অর্থনীতিবিদদের প্রায় ৯০ হাজার নতুন চাকরির পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক কম। একই সময়ে বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ।   শ্রমবাজারের এই ধীরগতির তথ্য প্রকাশের পরও শেয়ারবাজারে উল্টো ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। অর্থনীতি বিশ্লেষক স্যামুয়েল টবের মতে, চাকরির বাজার প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।   এর একটি কারণ হতে পারে সুদের হার নিয়ে ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সিদ্ধান্ত। দুর্বল চাকরির বাজার এবং বেকারত্বের হার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকায় অক্টোবরের শেষ দিকে ফেডারেল রিজার্ভ আবার সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা কমতে পারে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মোট বেসরকারি ও সরকারি খাতে নন-ফার্ম চাকরি ২৯ হাজার বেড়েছে। আগের ১২ মাসে মাসে গড়ে প্রায় ৪৫ হাজার চাকরি যোগ হয়েছিল। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের প্রবৃদ্ধি সাম্প্রতিক গড়ের চেয়েও কম। স্বাস্থ্যসেবা খাতে ১৭ হাজার চাকরি বেড়েছে, যদিও এই খাতেও আগের এক বছরের গড় বৃদ্ধির তুলনায় গতি কমেছে।   একই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুলাই ও আগস্টের চাকরি বৃদ্ধির আগের হিসাবও কমিয়ে সংশোধন করা হয়েছে। জুলাইয়ের হিসাব ২১ হাজার থেকে কমিয়ে ১০ হাজার চাকরি কমেছে হিসেবে সংশোধন করা হয়েছে। আগস্টের চাকরি বৃদ্ধির হিসাব ১ লাখ ৬২ হাজার থেকে কমিয়ে ১ লাখ ৩৩ হাজার করা হয়েছে। ফলে জুলাই ও আগস্ট মিলিয়ে আগের হিসাবের তুলনায় মোট ৬০ হাজার কম চাকরি যোগ হয়েছিল বলে নতুন হিসাব দেখাচ্ছে।   এই চাকরির তথ্য এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনীতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ রয়েছে। সেপ্টেম্বরের এক এপি-নরস জরিপে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের উদ্বেগের চিত্রও উঠে এসেছে। জরিপটি ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ২ হাজার ১৪০ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত হয়।   সাধারণ মানুষের জন্য চাকরির বাজারের এই পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি ও পরোক্ষ—দুইভাবেই পড়তে পারে। নিয়োগ ধীর হলে নতুন চাকরি খোঁজা কঠিন হতে পারে এবং আয় বৃদ্ধির গতি কমতে পারে। অন্যদিকে, শ্রমবাজার দুর্বল হওয়ার লক্ষণ ফেডারেল রিজার্ভকে সুদের হার নিয়ে অপেক্ষাকৃত সতর্ক অবস্থান নিতে উৎসাহিত করতে পারে। সুদের হার কমলে ঋণ, ক্রেডিট কার্ড, গাড়ি ও বাড়ির অর্থায়নের খরচে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন আসতে পারে।   মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটিই শেষ মাসিক চাকরির প্রতিবেদন হওয়ায় অর্থনীতি নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনাতেও এর গুরুত্ব রয়েছে। তবে চাকরির একটি মাসের তথ্য দিয়ে পুরো অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা নির্ধারণ করা যায় না। পরবর্তী মাসগুলোর চাকরি, মজুরি, মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার—সবগুলো তথ্য একসঙ্গে দেখলেই অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬ ৩:৪৩
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম শহর হিসেবে নিউইয়র্কে ‘ক্লিক-টু-ক্যানসেল’ নিয়ম, সাবস্ক্রিপশন বাতিল হবে এক ক্লিকেই

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম শহর হিসেবে নিউইয়র্ক সিটিতে গত ১ অক্টোবর থেকে সাবস্ক্রিপশন বাতিলের নতুন নিয়ম 'ক্লিক-টু-ক্যানসেল' কার্যকর হয়েছে। এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হলো, কোনো সেবায় যুক্ত হওয়া যতটা সহজ, তা বাতিল করার প্রক্রিয়াটিও ঠিক ততটাই সহজ করা। এখন থেকে অনলাইনে সাইন-আপ বা যুক্ত হওয়ার সুবিধা থাকলে, সেই সেবা বাতিলের জন্যও প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবশ্যিকভাবে অনলাইনে সরাসরি ক্যানসেল বাটন বা উপায় রাখতে হবে।     নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান সাবস্ক্রিপশন বাতিলের সময় গ্রাহককে সশরীরে উপস্থিত হতে বা ফোনকলে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে বাধ্য করতে পারবে না। জিম, স্ট্রিমিং সার্ভিস কিংবা ফ্রি ট্রায়াল থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়নযোগ্য যেকোনো মেম্বারশিপের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব কনজ্যুমার অ্যান্ড ওয়ার্কার প্রটেকশন (DCWP) জানিয়েছে, নিয়ম অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিটি লঙ্ঘনের জন্য অন্তত ৫২৫ ডলার জরিমানার মুখে পড়তে হবে।   গ্রাহকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য চ্যাটবটের লুপে ফেলে রাখার বদলে সরাসরি কর্মীদের মাধ্যমে দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে এই প্ল্যাটফর্মে।   কর্তৃপক্ষের ধারণা, এই উদ্যোগের ফলে নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের বছরে ২ কোটি ১৫ লাখ থেকে ১৬ কোটি ২৫ লাখ ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। পাশাপাশি, সাবস্ক্রিপশন বাতিলের জটিলতায় গ্রাহকদের যে হয়রানি হতো, তাতে বছরে অন্তত ৬ লাখ ঘণ্টা সময় বেঁচে যাবে।   এর আগে ফেডারেল ট্রেড কমিশন (FTC) জাতীয় পর্যায়ে এমন একটি নিয়ম চালুর উদ্যোগ নিলেও একটি আপিল আদালতের রায়ে তা আটকে যায়। এর ফলে নিজস্ব উদ্যোগে নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন সাধারণ মানুষের জন্য এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করল।

যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হওয়া দুই ভাই, আজ নিজ শহরের হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের প্রধান

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা যমজ ভাই ডা. ট্রাভান এবং ডা. ট্র্যাভিস জ্যাসপার এখন নিজ শহরেরই একটি স্বনামধন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দুই ভাই বর্তমানে রিচমন্ডের চিপেনহ্যাম হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের কো-ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।   নিজ শহরে এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছানোর অনুভূতি প্রকাশ করে ট্র্যাভিস গণমাধ্যমটিকে জানান, ৪০ বছর আগে এমন কোনো স্বপ্নের কথা তিনি কল্পনাও করতে পারতেন না।   নিজেদের শৈশবের কঠিন দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে ট্রাভান জানান, একসময় তাদের বাড়িতে কোনো সুপেয় পানির ব্যবস্থা ছিল না। দৈনন্দিন ব্যবহারের পানি সংগ্রহ করার জন্য তাদের স্থানীয় পার্কের ওপর নির্ভর করতে হতো। তীব্র খাবার সংকটের মধ্যে দিন পার করলেও তাদের ভেতরে সফল হওয়ার প্রবল ক্ষুধা ছিল।   কারণ তারা গভীরভাবে বিশ্বাস করতেন, এই চরম দারিদ্র্যের শৃঙ্খল থেকে মুক্তির একটাই উপায়, আর তা হলো কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা।   চিকিৎসাপেশায় আসার পেছনে ১২ বছর বয়সের একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা এই দুই ভাইকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। সে সময় মদ্যপানজনিত লিভার ফেইলিওরে আক্রান্ত এক চাচাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন তারা। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকের অবজ্ঞাপূর্ণ আচরণ ও খারাপ মন্তব্য তাদের ভীষণভাবে ভয় পাইয়ে দিয়েছিল।   সেদিনই হাসপাতালের বারান্দায় দাঁড়িয়ে দুই ভাই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, ভবিষ্যতে তারা এমন চিকিৎসক হবেন, যারা রোগী ও তাদের পরিবারের প্রতি আরও বেশি সংবেদনশীল এবং মানবিক আচরণ করবেন।   নিজেদের সেই শৈশবের প্রতিজ্ঞা পূরণে তারা পড়াশোনায় অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রাখেন। হাইস্কুল থেকে কো-ভ্যালেডিক্টোরিয়ান হিসেবে পড়াশোনা শেষ করার পর তারা স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট সম্পন্ন করেন। এরপর ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নিজেদের ডিগ্রি অর্জন করেন।   শৈশবের সেই প্রতিজ্ঞার কয়েক দশক পর, গত এপ্রিলে তারা নিজ শহর রিচমন্ডে ফিরে আসেন এবং চিপেনহ্যাম হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের কো-ডিরেক্টর হিসেবে একযোগে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অবিকল একই রকম দেখতে হওয়ায় রোগী ও সহকর্মীদের সুবিধার্থে তারা কর্মক্ষেত্রে সবসময় ভিন্ন রঙের (সবুজ ও বেগুনি) স্ক্রাব পরিধান করেন।   শুধু কর্মক্ষেত্রেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও তারা একে অপরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং একই ভবনে বসবাস করেন। ফেলে আসা দিনগুলোর দিকে ফিরে তাকিয়ে ট্র্যাভিস বলেন, অতীতের সেই চরম প্রতিকূল দিনগুলোই আজকের এই সফল ও মানবিক চিকিৎসক হিসেবে তাদের গড়ে তুলেছে।

আলিনা অ্যারেনসিবিয়া নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ভুয়া পরিচয়ে ১২ হাজার ডলারের রোলেক্স কিনতে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্টে ধরা নারী

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ১২ হাজার ৩০০ ডলার মূল্যের একটি 'রোলেক্স সাবমেরিনার' ঘড়ি কেনার চেষ্টার অভিযোগে আলিনা অ্যারেনসিবিয়া নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২০২৫ সালের মে মাসে বোকা রেটন এলাকার একটি জুয়েলারি দোকানে অভিনব এই জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি এই ঘটনার পুলিশের বডি-ক্যামেরা ফুটেজ প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি নতুন করে গণমাধ্যমের আলোচনায় আসে।   জানা যায়, ওই নারী দোকানে গিয়ে ঘড়িটি কেনার জন্য তাঁর আইডি ও পেমেন্ট কার্ড জমা দেন। কার্ডের ওপর মুদ্রিত নামের সঙ্গে আইডি কার্ডের তথ্যের আপাত মিল থাকলেও, দোকানের সিস্টেমে আইডি কার্ডটি স্ক্যান করতেই ভিন্ন নাম ও ঠিকানা বেরিয়ে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহ হওয়ায় ওই স্মার্ট কর্মী বোকা রেটন পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি নিজেকে ‘এমিলি’ হিসেবে পরিচয় দেন এবং কার্ডটি নিজের বলে অনড় থাকেন। একপর্যায়ে তিনি দোকান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টাও করেন, কিন্তু পুলিশ তাঁকে আটকে রাখে।   অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ ঘটনাস্থলে একটি পোর্টেবল ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার নিয়ে আসে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার দিয়ে হাতের ছাপ নেওয়ার পরই ওই নারীর আসল পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। পাম বিচ কাউন্টির রেকর্ড অনুযায়ী, তাঁর আসল নাম আলিনা অ্যারেনসিবিয়া। প্রতারণার কাজ শেষে দ্রুত পালানোর জন্য তিনি ‘লেনা’ ছদ্মনামে একটি উবারও ডেকে রেখেছিলেন। তবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানারে আসল পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ওই উবার চালককে খালি হাতেই ফিরে যেতে হয়।   সব প্রমাণ হাতে পাওয়ার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে আলিনাকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণামূলকভাবে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার, জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স বা পরিচয়পত্র রাখা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে মিথ্যা পরিচয় দেওয়ার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। কাউন্টির রেকর্ড অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগের প্রতিটির জন্য ৫ হাজার ডলার করে জামিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।

টেক্সাসের বিগ বেন্ডে ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণে আদালতের সাময়িক স্থগিতাদেশ
টেক্সাসে ট্রাম্পের ৪৬ বিলিয়ন ডলারের সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণে বিচারকের স্থগিতাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের বিগ বেন্ড অঞ্চলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত বিশাল সীমান্ত প্রাচীর ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণে সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। শুক্রবার বিচারক ক্যাথলিন কার্ডোনি এই আদেশ দেন। এর ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া বড় একটি প্রকল্প আপাতত আইনি বাধার মুখে পড়েছে।   প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর আওতায় টেক্সাসের দক্ষিণ সীমান্তে প্রায় ৩০ ফুট উঁচু ইস্পাতের প্রাচীর নির্মাণের পাশাপাশি যানবাহন চলাচল ঠেকাতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধক, নতুন রাস্তা এবং আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি স্থাপনের কথা রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামো বাড়িয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ঠেকানো এবং নজরদারি জোরদার করাই এই পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য।   তবে প্রকল্পটি ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় বিভিন্ন পক্ষ এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করে। স্থানীয় জমির মালিক, ব্যবসায়ী, পরিবেশবাদী সংগঠন, রুইডোসার একটি ঐতিহাসিক গির্জার সমর্থক এবং নদীপথে পর্যটকদের নিয়ে কাজ করা রিভার গাইডরা মামলায় একত্র হন।   মামলাকারীদের অভিযোগ, বিগ বেন্ড অঞ্চলের প্রায় ৫০০ মাইল দীর্ঘ পাহাড়ি ও দুর্গম ভূপ্রকৃতি এমনিতেই সীমান্ত অতিক্রমের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে কাজ করে। সেখানে ব্যাপক আকারে প্রাচীর ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করলে স্থানীয় পরিবেশ, বন্যপ্রাণী এবং ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।   তাদের আরও অভিযোগ, সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে ট্রাম্প প্রশাসনের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ পরিবেশ, সংস্কৃতি ও প্রত্নতাত্ত্বিক সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু নিয়ম ও প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়েছে। এসব পদক্ষেপ আইনসম্মতভাবে নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও আদালতে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।   শুক্রবারের রায়ে বিচারক ক্যাথলিন কার্ডোনি বলেন, মামলাকারীদের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর অন্তত একটিতে তাদের পক্ষে রায় পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এই পর্যায়ে নির্মাণকাজ চলতে থাকলে বাদী পক্ষ গুরুতর ও পরে পূরণ করা সম্ভব নয়—এমন ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   আদালত জনস্বার্থ এবং মামলার সার্বিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিয়েছে। ফলে মূল মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্মাণকাজে সাময়িকভাবে বিরতি থাকবে।   এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় বিগ বেন্ড ন্যাশনাল পার্কের কিছু এলাকাও পড়বে। এর আগে পার্কের ভেতরে বুলডোজার দিয়ে জমি পরিষ্কারের কাজ শুরু হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই দলের রাজনীতিকদের মধ্য থেকেই সমালোচনা আসে। পরে প্রশাসন সেখানে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে।   সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে টেক্সাসে এর আগেও জমির মালিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধ দেখা গেছে। বিশেষ করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে প্রাচীর নির্মাণের ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণ, পরিবেশগত প্রভাব এবং স্থানীয় মানুষের স্বার্থ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি প্রশ্ন রয়েছে।   এদিকে মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপি আদালতের আদেশের পরও প্রকল্পটির পক্ষে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিগ বেন্ডের অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষা করেই সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে তারা নিজেদের মূল্যায়নের ওপর আস্থাশীল। পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে তারা বিচার বিভাগের সঙ্গে কাজ করছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।   অন্যদিকে মামলাকারী পরিবেশবাদী সংগঠন সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল ডাইভার্সিটির লায়েকেন জর্ডাল আদালতের সিদ্ধান্তকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মূল মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় আপাতত বুলডোজারগুলোকে সরে যেতে হবে। তিনি এই সিদ্ধান্তকে বিগ বেন্ড, টেক্সাস এবং মার্কিন সংবিধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   ন্যাশনাল পার্কস কনজারভেশন অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট টিয়ারনান সিটেনফেল্ডও আদালতের আদেশকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বিগ বেন্ড এলাকায় ইতোমধ্যে হওয়া ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য পরিবেশ ও ঐতিহাসিক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত না করে বিকল্প সমাধান খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন।   আদালতের এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা চূড়ান্ত রায় নয়। মূল মামলায় সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণের পরিকল্পনা আইনগতভাবে বৈধ কি না, পরিবেশ ও ঐতিহাসিক সম্পদ সুরক্ষার নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং প্রকল্পটি কীভাবে এগোবে—এসব বিষয় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

রোমানিয়ার ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় সহায়তা দিতে ঢাকায় আসছে দেশটির কনস্যুলার প্রতিনিধিদল। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশিদের ভিসা আবেদনে সহায়তা দিতে ঢাকায় আসছে রোমানিয়ার প্রতিনিধিদল

রোমানিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় সহায়তা দিতে ঢাকায় আসছে দেশটির দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদল। আগামী ৮ থেকে ১১ অক্টোবর ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার মিশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীসহ বাংলাদেশি নাগরিকদের বিভিন্ন কনস্যুলার সেবা দেওয়া হবে।   শুক্রবার, ২ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে অবস্থিত রোমানিয়ার দূতাবাস এ তথ্য জানিয়েছে। দূতাবাসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের আওতায় প্রাথমিকভাবে উচ্চশিক্ষার জন্য রোমানিয়ায় যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকদের অন্যান্য জরুরি কনস্যুলার অনুরোধও বিবেচনা করা হবে।   তবে এই বিশেষ সেবা নিতে ইচ্ছুক আবেদনকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। রোমানিয়ার দূতাবাস জানিয়েছে, শুধু দেশটির সরকারি ই-ভিসা পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করে অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিশ্চিতকরণ পাওয়া ব্যক্তিদের আবেদন গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ অনলাইন ব্যবস্থায় নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত না হলে ৮ থেকে ১১ অক্টোবরের ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার মিশনে গিয়ে নতুন করে ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।   রোমানিয়ার সরকারি ই-ভিসা ব্যবস্থায় প্রথমে অনলাইনে আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হয়। আবেদনটি যাচাই ও অনুমোদিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার মিশনে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীদের নির্ধারিত সময়ে মূল কাগজপত্রের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অনুলিপিও সঙ্গে রাখতে হয়।   বাংলাদেশি নাগরিকদের রোমানিয়ায় প্রবেশের জন্য ভিসা প্রয়োজন। দেশটির সরকারি ই-ভিসা পোর্টালের তালিকায় বাংলাদেশকে ভিসা-প্রয়োজনীয় দেশগুলোর মধ্যে রাখা হয়েছে। তাই উচ্চশিক্ষা, কাজ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে রোমানিয়ায় যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের নির্ধারিত ভিসা প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।   ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার মিশন নিয়ে দূতাবাস আবেদনকারীদের বিশেষভাবে সতর্ক করেছে। অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিশ্চিতকরণে দেওয়া তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে নির্ধারিত দিনে উপস্থিত হওয়ার পাশাপাশি ভিসার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অসম্পূর্ণ নথি বা অ্যাপয়েন্টমেন্টের তথ্যের সঙ্গে অসঙ্গতি থাকলে আবেদন গ্রহণের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।   রোমানিয়ার সরকারি ভিসা ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত উপস্থিতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ই-ভিসা পোর্টালে আবেদন সম্পন্ন করলেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয় না। আবেদনকারীর নির্ধারিত কনস্যুলার মিশনে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার এবং সংশ্লিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে রোমানিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ খুঁজছেন এমন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ঢাকায় এই অস্থায়ী কনস্যুলার সেবা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ সাধারণ নিয়মে কনস্যুলার মিশনে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নির্ধারিত সময়ের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হয়। ঢাকায় প্রতিনিধিদলের উপস্থিতির ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যোগ্য আবেদনকারীরা সরাসরি প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।   তবে এই উদ্যোগকে ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ভিসা আবেদন গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীর নথি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবে। রোমানিয়ার সরকারি ই-ভিসা পোর্টালেও উল্লেখ রয়েছে, আবেদন প্রক্রিয়ার সময় প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত তথ্য বা কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। ৮ থেকে ১১ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠেয় এই ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার মিশনে যেতে আগ্রহীদের তাই প্রথমে রোমানিয়ার সরকারি ই-ভিসা পোর্টালে নিজেদের আবেদন ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের তথ্য যাচাই করা এবং দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   সূত্র: রোমানিয়ার দূতাবাস

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
এক বছরেই ৩ ঈদ ও ২ হজের বিরল সম্ভাবনা!
এক বছরেই ৩ ঈদ ও ২ হজের বিরল সম্ভাবনা!
প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১:৮

২০৩৯ সালে একই ইংরেজি বছরের মধ্যে দুটি ঈদুল আজহা, একটি ঈদুল ফিতর এবং দুটি হজ মৌসুম পড়তে পারে। সৌদি আরবের জ্যোতির্বিদ্যা বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল্লাহ আল মিসনাদের হিসাবের বরাতে গালফ নিউজ জানিয়েছে, হিজরি ও গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির দৈর্ঘ্যের পার্থক্য থেকেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে।    আল মিসনাদের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, প্রথম ঈদুল আজহা পড়তে পারে ২০৩৯ সালের ৬ জানুয়ারি। পরের হিজরি বছরের ঈদুল আজহা একই ইংরেজি বছরের ২৬ ডিসেম্বর পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে ১৯ অক্টোবর হতে পারে ঈদুল ফিতর। তবে এগুলো আগাম হিসাব, চূড়ান্ত ধর্মীয় তারিখের ঘোষণা নয়।    দুটি ঈদুল আজহা দুটি আলাদা হিজরি বছরের অন্তর্ভুক্ত হবে। বছরের শুরুরটি হবে ১৪৬০ হিজরির ১০ জিলহজ এবং শেষেরটি ১৪৬১ হিজরির ১০ জিলহজ। ফলে একই গ্রেগরিয়ান বছরের জানুয়ারি ও ডিসেম্বরে পৃথক দুটি হজ মৌসুম পড়বে।    এর কারণ হিজরি বছর ইংরেজি বছরের চেয়ে ছোট। চান্দ্র মাসভিত্তিক হিজরি বছরে থাকে ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিন। অন্যদিকে সৌরভিত্তিক গ্রেগরিয়ান বছরে থাকে ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিন। তাই ঈদ, রমজান ও হজের সময় ইংরেজি বর্ষপঞ্জিতে সাধারণত প্রতি বছর প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন আগে আসে।    কোনো হিজরি উৎসব ইংরেজি বছরের একেবারে শুরুতে পড়লে পরের হিজরি বছরের একই উৎসব ডিসেম্বরের শেষ দিকে ফিরে আসতে পারে। ২০৩৯ সালের দুটি ঈদুল আজহা ও দুটি হজ মৌসুমের সম্ভাবনাও এভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন আল মিসনাদ। তিনি এ বিষয়ে নিজের ওয়েবসাইটে ২০১৩ সালেই হিসাব প্রকাশ করেছিলেন।    একই কারণে ২০৩০ সালের জানুয়ারি ও ডিসেম্বরে দুটি রমজান মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে গালফ নিউজ। তবে ভবিষ্যতের ঈদ, রমজান ও হজের নির্দিষ্ট তারিখ চাঁদ দেখা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘোষণার ভিত্তিতে নিশ্চিত হবে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বিষয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানে হামলার নতুন কারণ জানালেন ট্রাম্প, পাঠানো হচ্ছে ৯ হাজার মার্কিন সেনা
প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ২৩:২

ইরানে চলমান সংঘাতের পেছনে এতদিন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ঠেকানোকে প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার সেই বক্তব্যের পাশাপাশি নতুন একটি কারণ সামনে এনেছেন তিনি। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের যেসব স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি মাদক তৈরিরও সম্পর্ক ছিল।   শুক্রবার টেক্সাসে এক সমাবেশে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গে বলেন, সেখানে পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মাদক নিয়েও কাজ চলছিল। তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ব্যাখ্যায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই মাদক-সংক্রান্ত দাবির পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ বা নির্দিষ্ট স্থাপনের তথ্য প্রকাশ্যে দেওয়া হয়নি। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টও জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ব্যাখ্যায় ট্রাম্প এর আগে মূলত দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতার বিষয়টিই সামনে এনেছিলেন।   ট্রাম্পের নতুন বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত আবারও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে প্রায় ৯ হাজার অতিরিক্ত নাবিক ও মেরিন পাঠাচ্ছে। এই বহরে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বাধীন স্ট্রাইক গ্রুপ এবং ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ডের নেতৃত্বাধীন অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ রয়েছে। এই মোতায়েনের ফলে অক্টোবরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরী থাকতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে।   এর মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে আবার বড় ধরনের হামলা চালানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের পরবর্তী পদক্ষেপ এখনো নির্ধারিত নয়। এর আগে ইরানের একটি সাম্প্রতিক শান্তি প্রস্তাবকে যথেষ্ট নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেন তিনি এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আবারও সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনার কথা জানান। ফলে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতিও অব্যাহত রয়েছে।   ইরানও সম্ভাব্য নতুন হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের হামলা পুনরায় শুরু করলে তেহরান আরও কঠোর সামরিক জবাবের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সময়ে কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান সংঘাত বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলা এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো শর্ত নিয়ে আলোচনা করার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।   উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে একটি সাম্প্রতিক বিমানঘটনা। বুধবার একটি ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই উড়োজাহাজে সহকারী পাইলট তার ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাত করে উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের সহায়তায় তাকে নিয়ন্ত্রণে আনার পর উড়োজাহাজটি সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করে। ট্রাম্প বলেছেন, ওই ঘটনার সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে। তবে এখন পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে ওই ঘটনার যোগসূত্র নিশ্চিত হয়নি এবং তদন্ত চলছে।   এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার প্রভাব জ্বালানি বাজারেও পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত সেনা ও নৌবাহিনী মোতায়েন এবং ইরানকে ঘিরে নতুন করে হামলার আশঙ্কায় তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে, কারণ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল।   ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান অবশ্য জানিয়েছেন, তার দেশ নিজেদের রক্ষা করতে থাকবে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার দরজাও পুরোপুরি বন্ধ করেনি। ফলে একদিকে সামরিক প্রস্তুতি ও পাল্টাপাল্টি হুমকি বাড়ছে, অন্যদিকে সংঘাত থামাতে কূটনৈতিক যোগাযোগও চালু রয়েছে। ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের কারণ হিসেবে পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি মাদক তৈরির অভিযোগও যুক্ত হলো। তবে নতুন এই দাবির বিস্তারিত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। একই সময়ে প্রায় ৯ হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা ও তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানোর ঘটনা সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্স

ম্যানচেস্টারের ইহুদি সম্প্রদায়কে ঘিরে কথিত হামলার পরিকল্পনার তদন্ত করছে ব্রিটিশ সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ, গ্রেপ্তার দুই ইরানি নাগরিক
প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ২০:৪৮

উত্তর ইংল্যান্ডের ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসী হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগে দুই ইরানি নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাজ্য। দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, ইয়ম কিপুরের আগে ম্যানচেস্টারে হামলার প্রস্তুতির সঙ্গে তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ইয়ম কিপুর ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র দিন।   অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি হলেন ৩৫ বছর বয়সী রহমান সালেহি ও ৩৬ বছর বয়সী সালাম আহমাদিয়ান। যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটনের প্রস্তুতি নেওয়া বা অন্য কাউকে এমন কর্মকাণ্ডে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি সন্ত্রাসবাদ আইন ২০০৬-এর ৫ ধারার অধীনে করা হয়েছে।   যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে যে দুই ব্যক্তি একটি ঘরে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও সরঞ্জাম সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যস্থলও তারা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন বলে পুলিশের দাবি। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কথিত পরিকল্পনার বিষয়ে তারা বিদেশে থাকা এক তৃতীয় ব্যক্তির সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন, যিনি সম্ভবত ইরানে অবস্থান করছিলেন।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি ম্যানচেস্টার ও বৃহত্তর ম্যানচেস্টার এলাকায় ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে কথিত পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসও জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম চলমান এবং উভয়ের ন্যায্য বিচারের অধিকার রয়েছে।   যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেছেন, দেশটি ইরানি সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ধরনের গুরুতর নিরাপত্তা হুমকির মুখোমুখি। তার দাবি, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা এবং বিদেশে সমালোচকদের চুপ করানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকে। এসব কর্মকাণ্ডে প্রক্সি ও অপরাধী নেটওয়ার্ক ব্যবহারের অভিযোগও করেন তিনি। তবে ইরান বরাবরই এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।   সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের জাতীয় সমন্বয়কারী ভিকি ইভান্স বলেন, পবিত্র দিনগুলোর সময় কথিত হামলার পরিকল্পনার খবর ইহুদি সম্প্রদায় ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন যুক্তরাজ্যে ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনার সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে এবং ম্যানচেস্টারের হিটন পার্ক সিনাগগে গত বছরের প্রাণঘাতী হামলার বর্ষপূর্তিও ঘনিয়ে এসেছে।   ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর ম্যানচেস্টারের হিটন পার্ক হিব্রু কংগ্রেগেশন সিনাগগে হামলার ঘটনায় দুই ব্যক্তি নিহত হন। যুক্তরাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলাকারী গাড়ি নিয়ে উপাসনালয়ের বাইরে থাকা মানুষের ওপর আঘাত করার পর ছুরি নিয়ে হামলা চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কয়েক মিনিটের মধ্যেই হামলাকারীকে গুলি করে হত্যা করে।   এদিকে নতুন মামলার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের আরেকটি সাম্প্রতিক নিরাপত্তা তদন্তের কোনো সম্পর্ক নেই বলে পুলিশ জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিকে ঘিরে কথিত হামলার পরিকল্পনার তদন্তে গত বৃহস্পতিবার এক দ্বৈত ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে শুক্রবারের মামলায় অভিযুক্ত সালেহি ও আহমাদিয়ানের সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।   যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই অভিযুক্ত কয়েক বছর আগে ছোট নৌকায় করে ইউরোপ থেকে ব্রিটেনে প্রবেশ করেছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তাদের একজনকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল এবং অন্যজনের আশ্রয়ের আবেদন তখনও চলমান ছিল।   দুই অভিযুক্তকে শুক্রবার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের ৩ অক্টোবর লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে হাজির করার কথা ছিল। ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস জানিয়েছে, দ্রুত পরিচালিত সন্ত্রাসবিরোধী তদন্তের পর আদালতে অভিযোগ উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ রয়েছে বলে প্রসিকিউটররা মনে করেছেন। তবে সেটি কোনোভাবেই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়।   সূত্র: রয়টার্স

ইন্দোনেশিয়ায় গন্ধগোকুলের মল থেকে পাওয়া বীজ দিয়ে তৈরি কোপি লুওয়াক বিশ্বজুড়ে কফিপ্রেমীদের কাছে দারুণ সমাদৃত। ছবি: সংগৃহীত
হাতি ও গন্ধগোকুলের মল থেকে তৈরি হয় বিশ্বের অন্যতম দামি কফি
প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ২৩:৫৬

কফির সুবাস ও স্বাদ উপভোগ করতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এক কাপ পানীয় হাতে নেন। কিন্তু বিশ্বের কিছু বিশেষ কফি রয়েছে, যেগুলোর উৎপাদনপ্রক্রিয়া সাধারণ কফির তুলনায় একেবারেই আলাদা। থাইল্যান্ডের ব্ল্যাক আইভরি কফি এবং ইন্দোনেশিয়ার কোপি লুওয়াক এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত দুটি নাম। দুই ক্ষেত্রেই কফির চেরি প্রাণীর পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর মল থেকে আস্ত বিন সংগ্রহ করা হয়। পরে সেগুলো পরিষ্কার, শুকানো ও ভাজার মাধ্যমে পান করার উপযোগী করা হয়।   ব্ল্যাক আইভরি কফি তৈরি হয় থাইল্যান্ডে। এর জন্য নির্বাচিত আরাবিকা কফির পাকা চেরি হাতিদের স্বাভাবিক খাবারের সঙ্গে দেওয়া হয়। কফি চেরিগুলো খাওয়ার পর হাতির পরিপাকতন্ত্রে সেগুলো কয়েক ঘণ্টা থাকে। উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, এই সময় ১২ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। পরে হাতির মল থেকে কফির বিন আলাদা করে হাতে সংগ্রহ করা হয়। এরপর সেগুলো ভালোভাবে ধুয়ে রোদে শুকানো এবং নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ভাজা হয়।   এই কফির বিশেষত্বের একটি কারণ হিসেবে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানটি হাতির পরিপাকতন্ত্রে সংঘটিত জৈবিক গাঁজন প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে। তাদের দাবি, হাতির পরিপাকতন্ত্রের এনজাইম কফি চেরির কিছু প্রোটিন ভেঙে দেয়। এতে সাধারণ কফির তিক্ততা কমে এবং স্বাদে মাটির মতো ও ফলের আভাস তৈরি হয়। তবে এসব স্বাদগত বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা মূলত উৎপাদক ও কফি-বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করে।   ব্ল্যাক আইভরির উৎপাদনও খুব সীমিত। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বছরে প্রায় ৫০০ পাউন্ড বা ২২৭ কেজির মতো কফি উৎপাদন করা হয়। ২০২৫ সালের জন্য প্রতিষ্ঠানটি ৪৯৫ পাউন্ড উৎপাদনের কথা জানিয়েছে। সীমিত উৎপাদন, হাতে বাছাই ও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে এর দাম সাধারণ কফির তুলনায় অনেক বেশি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে বিভিন্ন প্যাকেজের দাম বেশ চড়া, আর তাদের এক প্রতিবেদনে প্রতি কেজি কফির দাম প্রায় ৩ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে।   অন্যদিকে কোপি লুওয়াকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এশিয়ান পাম সিভেট বা গন্ধগোকুলের নাম। ইন্দোনেশীয় ভাষায় ‘কোপি’ অর্থ কফি এবং ‘লুওয়াক’ বলতে গন্ধগোকুলকে বোঝায়। এই নিশাচর স্তন্যপায়ী প্রাণী কফি চেরি খাওয়ার পর ফলের বাইরের অংশ হজম করে। কিন্তু শক্ত কফির বীজ পুরোপুরি হজম না হয়ে মলের সঙ্গে বেরিয়ে আসে। পরে সেই বীজ সংগ্রহ করে পরিষ্কার, শুকানো ও ভাজা হয়।   কফির এই অস্বাভাবিক উৎপাদনপ্রক্রিয়া থেকেই কোপি লুওয়াকের বিশেষত্বের ধারণা এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, গন্ধগোকুলের পরিপাকতন্ত্র ও এর সঙ্গে যুক্ত অণুজীব কফির রাসায়নিক গঠনে পরিবর্তন আনতে পারে। তবে কোপি লুওয়াকের স্বাদ ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য কেবল প্রাণীর পরিপাকতন্ত্রের কারণে তৈরি হয় কি না, তা নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রাণীটির বেছে বেছে পাকা কফি চেরি খাওয়ার বিষয়টিও চূড়ান্ত স্বাদের পার্থক্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   কপি লুওয়াকের দামও সাধারণ কফির তুলনায় অনেক বেশি। সীমিত সরবরাহ, উৎপাদনপ্রক্রিয়ার বিশেষত্ব এবং এর বিরলতার ধারণা এই কফিকে বিলাসবহুল পণ্যে পরিণত করেছে। তবে এই কফির বাজার নিয়ে প্রাণীকল্যাণের প্রশ্নও দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার ২৯টি সিভেট কফি পর্যটন খামার নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সেখানে প্রাণীদের কল্যাণের মান নিয়ে গুরুতর ঘাটতি ছিল এবং কোনো সিভেটই গবেষণায় মূল্যায়ন করা পাঁচটি মৌলিক প্রাণীকল্যাণের স্বাধীনতা পুরোপুরি পূরণ করেনি।   এ কারণে সব কোপি লুওয়াককে একইভাবে উৎপাদিত বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বন্য পরিবেশ থেকে সংগৃহীত কফি এবং খাঁচায় রাখা প্রাণী দিয়ে উৎপাদিত কফির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। গবেষকেরা বিশেষ করে খাঁচায় রাখা সিভেটকে জোর করে কফি চেরি খাওয়ানো, সীমিত চলাচল ও অনুপযুক্ত পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। ফলে এই কফি কেনার ক্ষেত্রে উৎপাদনপ্রক্রিয়া ও প্রাণীকল্যাণের বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শও উঠে এসেছে।   আধুনিক গবেষণায় অবশ্য প্রাণী ব্যবহার না করেও কোপি লুওয়াকের মতো গাঁজন প্রক্রিয়া তৈরি করার চেষ্টা চলছে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় গন্ধগোকুলের পরিপাকতন্ত্রের অণুজীব ব্যবহার করে পরীক্ষাগারে অনুরূপ জৈবিক গাঁজন পদ্ধতি তৈরির কথা জানানো হয়েছে। এর লক্ষ্য ছিল প্রাণীকে ব্যবহার না করেই একই ধরনের স্বাদ ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য পাওয়া।   ফলে ব্ল্যাক আইভরি ও কোপি লুওয়াক শুধু অদ্ভুত উৎপাদনপ্রক্রিয়ার জন্যই আলোচিত নয়। সীমিত উৎপাদন, বিশেষ গাঁজন প্রক্রিয়া, বাজারের বিরলতার ধারণা এবং বিলাসবহুল পণ্যের চাহিদা মিলিয়ে এগুলো কফির দুনিয়ায় আলাদা জায়গা তৈরি করেছে। তবে দাম বা স্বাদের পাশাপাশি প্রাণীকল্যাণের বিষয়টিও এই বিশেষ কফিগুলোর আলোচনা থেকে বাদ দেওয়া যায় না।   সূত্র: Black Ivory Coffee, গবেষণাপত্র ও PubMed।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়